April 1, 2026, 1:09 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
বাড়ছে হাম, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ৭৯ শিশু চিকিৎসাধীন, সতর্কতা জোরদারের তাগিদ ২৪ ঘন্টায় অবৈধভাবে মজুদ করা ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার মান হানি মামলা কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা গুলিবিদ্ধ, পুলিশ তদন্ত শুরু কলেজ শিক্ষকদের ছুটি বাতিলের উদ্যোগ: যৌক্তিকতা ও সমালোচনা—দুই দিকেই বিতর্ক বিশেষ কমিটির সভা/ ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ বাতিল, সংসদে উঠছে না বিল আকারে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনে আসছে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত/ দুর্ঘটনার পরও নিরাপত্তায় উদাসীনতা জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রীকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী অ্যাখ্যা আমির হামজার জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করলে পরিণতি হবে পতিত সরকারের মতো: তথ্যমন্ত্রী

কূটনীতি, ক্রিকেট ও দ্বৈত মানদণ্ড: আইসিসি সিদ্ধান্তে প্রশ্নে বাংলাদেশ–পাকিস্তান

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতির সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে একদিকে যেমন আইসিসি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, অন্যদিকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে পাকিস্তান। পুরো ঘটনাটি কেবল ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক টানাপোড়েন, বোর্ডগুলোর কৌশলগত অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
আইসিসি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আর্থিক, ক্রীড়াগত বা প্রশাসনিক কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশকে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এই সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষতা ও সহযোগিতার নীতির ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যে কারণে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, সেই একই প্রেক্ষাপটে হঠাৎ করে শাস্তি প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যৎ আয়োজক সুবিধা দেওয়া কতটা নীতিগতভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে আইসিসির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানও শুরুতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়ে কঠোর অবস্থান নিলেও শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। সরকারি পর্যায়ের বার্তা, বোর্ড পর্যায়ের আলোচনা এবং আঞ্চলিক সমর্থনের উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাঠামোর চাপের কাছে নতি স্বীকার হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সমালোচকদের ভাষায়, নীতিগত অবস্থানের বদলে পরিস্থিতিভিত্তিক কৌশল গ্রহণ পাকিস্তানের ক্রিকেট কূটনীতির দুর্বলতাকেই প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সমালোচনা কম নয়। নিরাপত্তা শঙ্কা দেখিয়ে নির্ধারিত ভেন্যুতে খেলতে অনীহা, পরে বাদ পড়া, আবার আলোচনার মাধ্যমে শাস্তি এড়ানো—এই পুরো প্রক্রিয়া দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের পরিকল্পনা ও কূটনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, দৃঢ় অবস্থানের বদলে পরিস্থিতিনির্ভর সমঝোতার পথ বেছে নেওয়ায় বাংলাদেশের অবস্থানও দুর্বল হয়েছে।
সব মিলিয়ে ঘটনাটি দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নীতির চেয়ে শক্তির রাজনীতি এখনও প্রভাবশালী। আইসিসি নিরপেক্ষতার কথা বললেও সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে; পাকিস্তান প্রতিবাদের ভাষা বদলেছে বাস্তবতার চাপে; আর বাংলাদেশ সংকট সামাল দিলেও কৌশলগত দুর্বলতার প্রশ্ন এড়াতে পারেনি।
ক্রিকেট মাঠের বাইরের এই দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত খেলাটির বৈশ্বিক বিশ্বাসযোগ্যতাকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে—এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net